দুবাই থেকে নিজ দেশে এসে কিছু করবো বলে সকলের মতের বিপরীতে বউ, বাচ্চা নিয়ে চাকরী ছেড়ে ২০১৪ সালে দেশে ফেরত আসি। ২০১৫ সালের প্রথমদিকের কিছু ঘটনা বলি, তখন ফেইসবুকে পোস্ট করলেই অনেক সেল আসতো, এতো এতো ডলার বুস্ট করতে হতোনা। আর বুস্ট করলে অর্ডার এর বন্যা বয়ে যেত। কিন্তু তখন সেল হত মস্টলি টি-শার্ট, হুডি, ২০০/৩০০ টাকার গ্যাজেট আইটেম বা কিচেন এর কিছু সামগ্রী (অন্য আইটেম সেল কম ছিল) তখন আমাদের অফিসের স্টাফ বলতে আমি আর হাসান আমরা ২ জন। সারাদিনে আমাদের ৩/৪ টার বেশী অর্ডার আসতোনা এর কারণ আমরা পেমেন্ট নিয়ে অর্ডার কনফার্ম করতাম আর তখন অগ্রিম টাকা চাইলেই ৯৫% অর্ডার ক্যান্সেল হয়ে যেত 😃 অগ্রিম টাকা চাউয়া মানেই বিশাল অপরাধ টাইপের কিছু একটা। আমরা তখন নতুন মার্কেটে আমাদের কেউ চিনে না, তখন আজকের ডিল সবার উপড়ে।
যখন হাসান প্রোডাক্ট বুকিং দিতে এস এ পরিবহনে যেত তখন কিছু কিছু মার্চেন্ট ৩০০/৫০০/১২০০ শিপমেন্ট বুকিং দিত (তাদের বিজনেস বন্ধ হয়ে গেছে তাই নাম উল্লেখ করলাম না) আর সেখানে আমরা ৩/৪ টা মাত্র বুকিং দেই। হাসান প্রায়ই আমাকে বলতো ভাইয়া আমাদের অর্ডার বাড়ানো যায়না অন্যরা এইরকম হাজার হাজার শিপমেন্ট দেন ওঁদের জন্য এসএ পরিবহন এর আলাদা কাউন্টার ওড়দের গুলা আগে আগে করে দেয় আমাদের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। বিজনেস বড় করতে হলে একটু তো রিস্ক নিতেই হবে আরও অনেক কথা। সব শুনে বল্লাম দেখো অর্ডার বাড়ানো যাবে কিন্তু অনেক রিটার্ন আসবে কিন্তু অনেক টাকা লস হবে। এর পরেও কিছুটা টেস্টিং এর জন্যই বল্লাম ঠিক আছে আমরা ১ সপ্তাহ পেমেন্ট না নিয়ে অর্ডার কনফার্ম করি, সাথে কিছু বুস্টও করি ফেইসবুকে।
যেই কথা সেই কাজ শুরু করলাম আমাদের টেস্ট অভিযান। সমানে অর্ডার, অর্ডার এর পর অর্ডার। কল সেন্টার ছিলোনা আমি নিজেই কল ধরতাম, শেষে হাসানও কল ধরত অর্ডার নিত। এভাবে ৩/৪ দিন চলার পর নিজের কাছেই ভঁয় লাগতে থাকলো প্রতিদিইন ৪০/৫০/৬০ টা করে অর্ডার আসতো আমরা সারতেই পারতাম না সব কিছু শেষ করে বুকিং এ দিতে, খুব পরিশ্রম করে পকেটের টাকা খরচ করে তখন প্রতিটা পার্সেল ৮০ টাকা করে নিত, প্রোডাক্টও দিলাম নগদ টাকা দিয়ে বুকিং ওঁ দিলাম। সবাইকে এসএমএস করে করে বুকিং নাম্বার দিলাম, জানালাম যে বুকিং করা হয়েছে দ্রুত প্রোডাক্ট তুলে নিতে।
গল্পটা সুখের হতেই পারতো, কিন্তু হলনা- অল্প কয়েকজন বাদের অনেকেই আর আমাদের কল ধরেনা। কেউ কেউ কল ধরে বলে প্রোডাক্ট তুলতে আজ না কাল যাবো, ব্যাস্ত ইত্যাদি ইত্যাদি এভাবে ২/৩ দিন খুব বাজে একটা সময় গেলো। হাসান এর মুখটা কালো হয়ে থাকে কিছু বলতেও পারেনা কারণ এই আইডিয়া ঐ দিছে। যদিও আমি রাজি না হলে তো আর হতনা। মোটামুটি ৪/৫ দিন পর টাকা তুলতে গিয়ে দেখি মাত্র কয়েকটা বিল এসেছে বাকি সব শিপমেন্ট এর খোজ নিয়ে জানা গেলো প্রোডাক্ট তুলে নাই, কিছু তুলেছে সেগুলির টাকা আরও ২ দিন পর আসবে। এভাবে প্রায় ৭ দিন সময় এই প্রোজেক্টে পার করে আমরা অনেক কঠিন কিছু শিক্ষা শিখলাম এবং ডিসিশন নিলাম- আমরা সবার কাছে প্রোডাক্ট সেল করতে পারবোনা, সবাইকে আমাদের টার্গেট করেও কাজ নেই। আমরা কম দামের প্রোডাক্ট সেল করা বাদ দিয়ে অরিজিনাল ব্র্যান্ড প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করবো সেল ৩/৪ টা আসলেও আমরা ধৈর্য ধরব এবং আমরা আমাদের সার্ভিস এর কোয়ালিটি এবং দ্রুত ডেলিভারি নিশ্চিত করতে কাজ করবো।
আমাদের অনেক ডিসিশনই অনেকেই শুরু থেকেই অপছন্দ করেছেন এবং অনেকেই অনেক উপদেশ দিয়েছেন, আমরা শুনেছি সবার কথা, উনুধাবন করার চেষ্টা করেছি এবং আমরা আমাদের নিজেদের মত সেটিকে সময়ে সময়ে পরিবর্তন করেছি। তবে যারা সেই সময় হাজার হাজার অর্ডার প্রসেস করতেন অথবা ২০০/৩০০ তাদের অনেকেই এখন আর এই বিজনেসে নেই, অনেকেই জব করছেন আবার অনেকেই অন্য বিজনেস করছেন। আমাদের ডিসিশন সম্পূর্ণ সঠিক না হলেও অন্তত কিছু কিছু সঠিক ছিল যার ফলে এবং আল্লাহ্র রহমতে আমরা এখনো টিকে আছি। মার্কেটে হাজার হাজার শপ, কোটি কোটি টাকা ইনভেস্ট করেও অনেকেই বিজনেস বাদ দিয়েছেন।
আমরা পেমেন্ট কেন এডভান্স নেই এটা তার একটি ছোট উদাহরণ, এই রকম আরও অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে এই গত ৬ বছরে। সব অভিজ্ঞতাই যে খারাপ তেমন টা না অনেক অভিজ্ঞতা এমনও আছে যে আমাদের ভুলে আনপেইড অর্ডার কন্ডিশন ছাড়াই চলে গেছে কাস্টমার ডেলিভারি পাবার পর আমাদের সাথে যোগাযোগ করে পরে পেমেন্ট করেছেন এমন ঘটনা অনেক আছে। আপনাদের থেকে প্রোডাক্ট এর পেমেন্ট আগে নিয়ে কোম্পানি ভেগে যাবেনা 🙂 এটা নিশ্চিত থাকেন এবং কোন সমস্যা হলে আমাদের ফুল টিম কাজ করছে আপনাদের সহযোগিতা করার জন্য- তাড়া কেউ না পারলে আমি কিন্তু আমাদের গ্রুপে প্রায় সময়ই একটিভ থাকি।
আর আমাদের গ্রুপে প্রোডাক্ট এর প্রবলেম বা কমপ্লেইন পোস্ট এপ্রুভ করা হয়, আমরা ইগ্নর না করে চেষ্টা করি সমাধান করার। আগেই বলেছি আমরা সবাইকে টার্গেট করিনা বা সবার কাছে সেলও করতে পারবোনা। ১৮ কোটি মানুষকে সার্ভিস দেয়ার মত রিসোর্স বা ইনফ্রাস্ট্রাকচার কোনটাই আমাদের নেই 🙂 তাই লিমিটেড রিসোর্সের মধ্যেই অল্প কাস্টমারদের আমরা চেষ্টা করি ভালো সার্ভিস দেয়ার। এর পরেও পৃথিবীর কোন কিছুই পারফেক্ট না তাই সার্ভিস বা প্রোডাক্টেরও প্রবলেম হয় এবং তার জন্য আমরা আছি আপনার পাশে।
যখন হাসান প্রোডাক্ট বুকিং দিতে এস এ পরিবহনে যেত তখন কিছু কিছু মার্চেন্ট ৩০০/৫০০/১২০০ শিপমেন্ট বুকিং দিত (তাদের বিজনেস বন্ধ হয়ে গেছে তাই নাম উল্লেখ করলাম না) আর সেখানে আমরা ৩/৪ টা মাত্র বুকিং দেই। হাসান প্রায়ই আমাকে বলতো ভাইয়া আমাদের অর্ডার বাড়ানো যায়না অন্যরা এইরকম হাজার হাজার শিপমেন্ট দেন ওঁদের জন্য এসএ পরিবহন এর আলাদা কাউন্টার ওড়দের গুলা আগে আগে করে দেয় আমাদের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। বিজনেস বড় করতে হলে একটু তো রিস্ক নিতেই হবে আরও অনেক কথা। সব শুনে বল্লাম দেখো অর্ডার বাড়ানো যাবে কিন্তু অনেক রিটার্ন আসবে কিন্তু অনেক টাকা লস হবে। এর পরেও কিছুটা টেস্টিং এর জন্যই বল্লাম ঠিক আছে আমরা ১ সপ্তাহ পেমেন্ট না নিয়ে অর্ডার কনফার্ম করি, সাথে কিছু বুস্টও করি ফেইসবুকে।
যেই কথা সেই কাজ শুরু করলাম আমাদের টেস্ট অভিযান। সমানে অর্ডার, অর্ডার এর পর অর্ডার। কল সেন্টার ছিলোনা আমি নিজেই কল ধরতাম, শেষে হাসানও কল ধরত অর্ডার নিত। এভাবে ৩/৪ দিন চলার পর নিজের কাছেই ভঁয় লাগতে থাকলো প্রতিদিইন ৪০/৫০/৬০ টা করে অর্ডার আসতো আমরা সারতেই পারতাম না সব কিছু শেষ করে বুকিং এ দিতে, খুব পরিশ্রম করে পকেটের টাকা খরচ করে তখন প্রতিটা পার্সেল ৮০ টাকা করে নিত, প্রোডাক্টও দিলাম নগদ টাকা দিয়ে বুকিং ওঁ দিলাম। সবাইকে এসএমএস করে করে বুকিং নাম্বার দিলাম, জানালাম যে বুকিং করা হয়েছে দ্রুত প্রোডাক্ট তুলে নিতে।
গল্পটা সুখের হতেই পারতো, কিন্তু হলনা- অল্প কয়েকজন বাদের অনেকেই আর আমাদের কল ধরেনা। কেউ কেউ কল ধরে বলে প্রোডাক্ট তুলতে আজ না কাল যাবো, ব্যাস্ত ইত্যাদি ইত্যাদি এভাবে ২/৩ দিন খুব বাজে একটা সময় গেলো। হাসান এর মুখটা কালো হয়ে থাকে কিছু বলতেও পারেনা কারণ এই আইডিয়া ঐ দিছে। যদিও আমি রাজি না হলে তো আর হতনা। মোটামুটি ৪/৫ দিন পর টাকা তুলতে গিয়ে দেখি মাত্র কয়েকটা বিল এসেছে বাকি সব শিপমেন্ট এর খোজ নিয়ে জানা গেলো প্রোডাক্ট তুলে নাই, কিছু তুলেছে সেগুলির টাকা আরও ২ দিন পর আসবে। এভাবে প্রায় ৭ দিন সময় এই প্রোজেক্টে পার করে আমরা অনেক কঠিন কিছু শিক্ষা শিখলাম এবং ডিসিশন নিলাম- আমরা সবার কাছে প্রোডাক্ট সেল করতে পারবোনা, সবাইকে আমাদের টার্গেট করেও কাজ নেই। আমরা কম দামের প্রোডাক্ট সেল করা বাদ দিয়ে অরিজিনাল ব্র্যান্ড প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করবো সেল ৩/৪ টা আসলেও আমরা ধৈর্য ধরব এবং আমরা আমাদের সার্ভিস এর কোয়ালিটি এবং দ্রুত ডেলিভারি নিশ্চিত করতে কাজ করবো।
আমাদের অনেক ডিসিশনই অনেকেই শুরু থেকেই অপছন্দ করেছেন এবং অনেকেই অনেক উপদেশ দিয়েছেন, আমরা শুনেছি সবার কথা, উনুধাবন করার চেষ্টা করেছি এবং আমরা আমাদের নিজেদের মত সেটিকে সময়ে সময়ে পরিবর্তন করেছি। তবে যারা সেই সময় হাজার হাজার অর্ডার প্রসেস করতেন অথবা ২০০/৩০০ তাদের অনেকেই এখন আর এই বিজনেসে নেই, অনেকেই জব করছেন আবার অনেকেই অন্য বিজনেস করছেন। আমাদের ডিসিশন সম্পূর্ণ সঠিক না হলেও অন্তত কিছু কিছু সঠিক ছিল যার ফলে এবং আল্লাহ্র রহমতে আমরা এখনো টিকে আছি। মার্কেটে হাজার হাজার শপ, কোটি কোটি টাকা ইনভেস্ট করেও অনেকেই বিজনেস বাদ দিয়েছেন।
আমরা পেমেন্ট কেন এডভান্স নেই এটা তার একটি ছোট উদাহরণ, এই রকম আরও অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে এই গত ৬ বছরে। সব অভিজ্ঞতাই যে খারাপ তেমন টা না অনেক অভিজ্ঞতা এমনও আছে যে আমাদের ভুলে আনপেইড অর্ডার কন্ডিশন ছাড়াই চলে গেছে কাস্টমার ডেলিভারি পাবার পর আমাদের সাথে যোগাযোগ করে পরে পেমেন্ট করেছেন এমন ঘটনা অনেক আছে। আপনাদের থেকে প্রোডাক্ট এর পেমেন্ট আগে নিয়ে কোম্পানি ভেগে যাবেনা 🙂 এটা নিশ্চিত থাকেন এবং কোন সমস্যা হলে আমাদের ফুল টিম কাজ করছে আপনাদের সহযোগিতা করার জন্য- তাড়া কেউ না পারলে আমি কিন্তু আমাদের গ্রুপে প্রায় সময়ই একটিভ থাকি।
আর আমাদের গ্রুপে প্রোডাক্ট এর প্রবলেম বা কমপ্লেইন পোস্ট এপ্রুভ করা হয়, আমরা ইগ্নর না করে চেষ্টা করি সমাধান করার। আগেই বলেছি আমরা সবাইকে টার্গেট করিনা বা সবার কাছে সেলও করতে পারবোনা। ১৮ কোটি মানুষকে সার্ভিস দেয়ার মত রিসোর্স বা ইনফ্রাস্ট্রাকচার কোনটাই আমাদের নেই 🙂 তাই লিমিটেড রিসোর্সের মধ্যেই অল্প কাস্টমারদের আমরা চেষ্টা করি ভালো সার্ভিস দেয়ার। এর পরেও পৃথিবীর কোন কিছুই পারফেক্ট না তাই সার্ভিস বা প্রোডাক্টেরও প্রবলেম হয় এবং তার জন্য আমরা আছি আপনার পাশে।


0 মন্তব্যসমূহ